ফ্রান্সিসেলোসিস (মাছ)
ফ্রান্সিসেলোসিস হলো চাষকৃত মাছের একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা Francisella noatunensis এবং এর উপ-প্রজাতি দ্বারা সৃষ্ট, যা টুলারেমিয়ার জীবাণুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত অন্তঃকোষীয় গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। এটি তেলাপিয়ার একটি উদীয়মান রোগ, আটলান্টিক কড, হাইব্রিড স্ট্রাইপড বাস এবং বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক শোভাবর্ধক প্রজাতিতে এর সংক্রমণ রিপোর্ট করা হয়েছে। সংক্রমণটি দীর্ঘস্থায়ী গ্রানুলোমাটাস প্রদাহের মাধ্যমে প্রকাশ পায়: প্লীহা, বৃক্ক ও যকৃতে সাদাটে নোডিউল, প্লীহা বৃদ্ধি (স্প্লেনোমেগালি), শীর্ণতা, নিস্তেজতা, ত্বকের আলসার ও ক্ষয় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বল্প মাত্রার মৃত্যুহার যা কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে মজুদ জৈবভর ক্ষয় করে; অভ্যন্তরীণভাবে, ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ গ্রানুলোমা অঙ্গের টিস্যুর বিশাল অংশ প্রতিস্থাপন করে। যেহেতু ব্যাকটেরিয়া পোষক কোষের ভিতরে বংশবৃদ্ধি করে, তাই তারা অনেক অ্যান্টিবায়োটিক এবং মাছের সংবহনতন্ত্রের প্রতিরক্ষা থেকে সুরক্ষিত থাকে, যা চিকিৎসাকে হতাশাজনক এবং প্রায়শই অকার্যকর করে তোলে। তেলাপিয়া চাষিদের জন্য উষ্ণ-পানির নিবিড় চাষ ব্যবস্থায় এই রোগটি একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়, যেখানে এটি পানি, দূষিত সরঞ্জাম এবং আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ বাহকের মাধ্যমে ছড়ায়। ব্যবস্থাপনা কঠোর জৈব-নিরাপত্তা, ফসল চক্রের মাঝে জীবাণুমুক্তকরণ ও শুকানো, প্রত্যয়িত রোগমুক্ত পোনা সংগ্রহ এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে আক্রান্ত মাছ বাছাই করে অপসারণের উপর নির্ভর করে। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন প্রার্থী এবং প্রতিরোধী তেলাপিয়া স্ট্রেইন নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে, তবে বর্তমানে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবিধিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার, যা ময়নাতদন্তে দীর্ঘস্থায়ী গ্রানুলোমা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষাগার নির্ণয়কে অপরিহার্য করে তোলে।