বেটা মাছের বাণিজ্যিক প্রজনন
বেটা মাছের (Betta splendens) বাণিজ্যিক প্রজনন মূলত থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রগুলোতে সীমাবদ্ধ। এই মাছের ল্যাবিরিন্থ অঙ্গের মাধ্যমে বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা এবং পুরুষ মাছের অত্যন্ত আঞ্চলিক ও আক্রমণাত্মক আচরণের ওপর ভিত্তি করেই এর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। পুরুষ মাছগুলোকে লড়াইজনিত আঘাত থেকে বাঁচাতে সাধারণত ছোট আলাদা পাত্রে রাখা হয়, যা অন্যান্য খাদ্য-মাছ বা শোভাবর্ধক মাছের দলবদ্ধ চাষের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রজননকারীরা মাছের পাখনার আকৃতি (যেমন- ভেইলটেইল, হাফমুন, ক্রাউনটেইল) এবং রঙের বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনমূলক প্রজনন করেন, যা শৌখিন ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। ল্যাবিরিন্থ অঙ্গের কারণে বেটা মাছ কম অক্সিজেন ও কম পানির পাত্রে বেঁচে থাকতে পারে, যা এই মাছের কম অবকাঠামো ও উচ্চ-ঘনত্বের একক-আবাসন উৎপাদন মডেলকে সম্ভব করেছে। আন্তর্জাতিক পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই বায়ু-শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা মাছটিকে দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে সাহায্য করে, যা শোভাবর্ধক মাছের বাণিজ্যে একটি বড় সুবিধা।