মাগুর এবং কৈ মাছ চাষ
মাগুর (Clarias প্রজাতি) এবং কৈ (Anabas testudineus) মাছ চাষকৃত মাছের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য শেয়ার করে, যা হলো তাদের অতিরিক্ত বায়ু-শ্বসন অঙ্গ। এটি তাদের পানির বাইরে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে এবং অত্যন্ত কম দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) মাত্রায় টিকে থাকতে সাহায্য করে, যা অন্য অধিকাংশ চাষকৃত মাছের জন্য কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণঘাতী হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যেখানে নির্ভরযোগ্য বায়ু চলাচল বা অ্যারেশন অবকাঠামো নেই বা ব্যয়বহুল, সেখানে ছোট পরিসরে চাষের জন্য এই প্রজাতিগুলো অত্যন্ত উপযোগী। এই বায়ু-শ্বসন ক্ষমতার কারণে খামার ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এই মাছগুলো বৃষ্টির সময় ভেজা মাটির ওপর দিয়ে পুকুর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। তাই মাছের পলায়ন রোধে খামারিদের পুকুরের পাড় উঁচু রাখা এবং বিশেষ বেষ্টনী তৈরি করা প্রয়োজন, যা অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে পানির গুণমান বা জালের ছিদ্রজনিত পলায়ন ঝুঁকির চেয়ে ভিন্ন। ক্লারিয়াস (Clarias) প্রজাতির মাগুর মাছ উচ্চ ঘনত্বে এবং নিম্নমানের পানিতেও চাষ করা যায়, যা অন্যান্য মাছের বৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর। তবে এই সহনশীলতা অনেক সময় উচ্চ ঘনত্বের এবং জৈব পদার্থে পূর্ণ নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে মাছের নির্দিষ্ট রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই দুই প্রজাতির মাছের হাইপোক্সিয়া এবং বায়ুর সংস্পর্শে টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা তাদের অক্সিজেন-নিরপেক্ষ বেঁচে থাকার কৌশলের গবেষণার বিষয়বস্তু করে তুলেছে, যা জলজ চাষের পাশাপাশি মাছের শ্বসন শারীরবৃত্তীয় গবেষণাতেও গুরুত্বপূর্ণ।