লাল দেহ রোগ (চিংড়ি)
লাল দেহ রোগ হলো চাষকৃত চিংড়ির একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সেপ্টিসেমিয়া, যা ক্লাসিকভাবে Vibrio harveyi এবং সংশ্লিষ্ট আলোক-বিচ্ছুরণকারী ও অ-আলোক-বিচ্ছুরণকারী ভিব্রিও প্রজাতির সাথে যুক্ত, যদিও অন্যান্য গ্রাম-নেগেটিভ সংক্রমণের পরেও অনুরূপ উপসর্গ দেখা যায়। আক্রান্ত চিংড়ির হিমোলিম্ফ জমাট বাঁধার কারণে শরীর ও উপাঙ্গে ছড়িয়ে পড়া লালচে বা গোলাপি বিবর্ণতা দেখা যায়, সাথে নিস্তেজতা, ক্ষুধামান্দ্য, পেশির অস্বচ্ছতা এবং কখনও কখনও অন্ধকারে সদ্য মৃতপ্রায় প্রাণীর মৃদু আলোক বিকিরণ দেখা যায়। তীব্র প্রাদুর্ভাবে কয়েক দিনের মধ্যে পুকুরের ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ চিংড়ি মারা যেতে পারে, বিশেষ করে যখন পানির তাপমাত্রা ৩০ °C ছাড়িয়ে যায়, দ্রবীভূত অক্সিজেন কম থাকে এবং জৈব পদার্থের ভার বেশি থাকে — যা নিবিড় চাষের শেষ পর্যায়ের পুকুরের সাধারণ অবস্থা। চাপই প্রধান ট্রিগার: নাড়াচাড়া, খোলস বদল, লবণাক্ততা বা তাপমাত্রার ওঠানামা এবং পূর্ববর্তী WSSV বা EHP সহ-সংক্রমণ সংবেদনশীলতা বাড়ায়। রোগ নির্ণয় করা হয় হিমোলিম্ফ বা হেপাটোপ্যানক্রিয়াস থেকে thiosulfate citrate bile salts sucrose agar-এ ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণের মাধ্যমে, সাথে অ্যান্টিবায়োটিক সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়; আণবিক প্যানেল ভাইরাসজনিত অনুরূপ রোগ বাতিল করতে সাহায্য করে। প্রতিরোধই ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি: জৈব-নিরাপদ পুকুর প্রস্তুতি, স্ক্রিনিং ও শোধিত পানি, SPF পোনা, পরিবেশে Vibrio এর পরিমাণ দমনে প্রোবায়োটিক, স্থিতিশীল অক্সিজেন ও লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত খাদ্য প্রদান এড়ানো। অবশিষ্টাংশ ও প্রতিরোধ ক্ষমতার উদ্বেগের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র পশুচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং প্রত্যাহারকাল মেনে ব্যবহার করা উচিত।